অভিবাসীদের নতুন তৃতীয় দেশে পাঠানো হতে পারে...uk

 শরণার্থী নীতি পুনর্গঠনের অধীনে অভিবাসীদের নতুন তৃতীয় দেশে পাঠানো হতে পারে

যুক্তরাজ্যের সরকার একটি বিতর্কিত নতুন পরিকল্পনা পরীক্ষা করছে যাতে ব্যর্থ আশ্রয় প্রার্থীদের তৃতীয় কোন দেশে বহিষ্কার পাঠানো যায় — এটি একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ, যা ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া অভিবাসীদের প্রবাহ কমানোতে লক্ষ্য রাখে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যারা যুক্তরাজ্যে সব আপিল ব্যবস্থা শেষ করে তারা সরাসরি নিজ দেশ ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে বিদেশে একটি নির্দিষ্ট “ফিরতি কেন্দ্র”-এ পাঠানো হতে পারে। (জিবি নিউজ)





পরিকল্পনাটি কী?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসিয়ালরা এমন একটি "ফিরতি হাব" স্থাপনের জন্য উত্তর ম্যাসেডোনিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রয়েছে। (জিবি নিউজ) প্রস্তাবিত বন্দোবস্ত অনুসারে, যুক্তরাজ্য প্রতিটি গৃহীত অভিবাসীর জন্য উত্তর ম্যাসেডোনিয়াকে অর্থ প্রদান করবে এবং দেশটিকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করতে পারে। (দ্য সান)

স্কিমের আওতায় স্থানান্তরিত অভিবাসীরা আটক বা সীমাবদ্ধ হবেন না — তারা দেশের বাইরে যেতে স্বাধীন হবেন এবং যোগ্য হলে, আশ্রয় বা কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন, বিশেষ করে নির্মাণের মতো শ্রম সংকটপূর্ণ ক্ষেত্রে। (দ্য টাইমস)

পরিকল্পনাটি পূর্ববর্তী প্রস্তাবের (যেমন ব্যাপক সমালোচিত রুয়ান্ডা স্কিম) থেকে আলাদা, কারণ এটি শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য যাদের যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের দাবি চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, নতুন আগত অভিবাসীদের জন্য নয়। (উইকিপিডিয়া)

কেন এখন — এবং লক্ষ্য কি? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চ্যানেল পারাপারের রেকর্ড সংখ্যার কারণে সরকার যুক্তি দেয় যে বিদ্যমান পদক্ষেপগুলি — যার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের অবৈধ অভিবাসন আইন ২০২৫ — তস্করদের deterr করতে এবং বিপজ্জনক যাত্রা রোধ করতে পর্যাপ্ত ছিল না। (উইকিপিডিয়া)

ফ্রান্সের সাথে পৃথক চুক্তির আওতায়, ব্রিটেন সম্প্রতি একটি “একটি প্রবেশ, একটি প্রস্থান” কর্মসূচি চালু করেছে: অবৈধভাবে নৌকা দিয়ে আগত অভিবাসীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যখন ব্রিটেন ফ্রান্স থেকে বৈধভাবে আগত অনুরূপ সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীদের স্বীকার করে। (উইকিপিডিয়া)

তৃতীয় দেশের “ফিরিয়ে দেওয়ার কেন্দ্র” যুক্ত করে সরকার আরও শক্তিশালী বাধা প্রদর্শনের আশা রাখে, নিশ্চিত করতে যে ব্রিটেনে ব্যর্থ হওয়া অভিবাসীরা থাকতে পারবে না — একইসাথে সম্ভবত নিরাপদ নয় এমন মূল দেশগুলোতে নির্বাসন থেকে এড়ানো যায়। (জিবি নিউজ)
বিবাদ ও উদ্বেগ
মানবাধিকারের সংস্থা ও শরণার্থী সংরক্ষণ গ্রুপগুলো ইতিমধ্যেই কঠোর আপত্তি জানিয়েছে। তারা সতর্ক করছেন যে, মাইগ্রান্টদের বিদেশি “হাব”-এ স্থানান্তর করা—even যদি তা ইউরোপের মধ্যে থাকুক—সত্যিকারের নৈতিক এবং আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে, যার মধ্যে এমন ঝুঁকিও রয়েছে যে, তাদের আশ্রয় যদি ন্যায়সম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত না হয়, তারা অনিশ্চিত বা অস্থির পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

সমালোচকরা আরও যুক্তি দেন যে, এই ধরনের নীতি আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা ক্ষুণ্ণ করতে পারে, কারণ এটি মূল স্থানান্তরের কারণগুলি সমাধান না করে দায়িত্ব স্থানান্তর করে। এমনও ভয় আছে যে, যারা তৃতীয় দেশে পাঠানো হবে তারা অনিশ্চয়তায় থাকবে, যেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা, আইনি সাহায্য বা স্থিতিশীল স্থিতি পাওয়া অনিশ্চিত হতে পারে।
রাজনীতির দিক থেকে, এই পরিকল্পনাটি ঝুঁকিপূর্ণ, কিছু মানুষ এটিকে আশ্রয় নীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি 'আউটসোর্সিং'-এ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো হিসেবে দেখছেন — একটি কৌশল যা প্রায় আগের রুয়ান্ডা প্রস্তাবকে ব্যাহত করেছিল, যা বারবার আদালতের চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখোমুখি হয়েছিল।
পরবর্তী ধাপ — সামনে থাকা পথ
সরকারি সূত্রগুলি বলছে যে ফেরত কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের আশ্রয় এবং সীমান্ত নীতির বৃহত্তর সংস্কারের অংশ, এবং এটিকে আরও বিস্তৃত সংস্কারের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে কঠোর সীমান্ত প্রয়োগ এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের তীব্রতা। (GB News)

তবে — আইনি, নৈতিক এবং কূটনৈতিক জটিলতাগুলোর কারণে — গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা এখনও রয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি নির্ভর করছে বিদেশি সরকারের সহযোগিতা নিশ্চিত করার উপর যারা স্থানান্তরিত অভিবাসনদের গ্রহণ করতে রাজি, এবং নিশ্চিত করার উপর যে সেখানকার আশ্রয় প্রক্রিয়াগুলি আন্তর্জাতিক মান পূরণ করছে।

এই মুহূর্তে, পরিকল্পনাটি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে, এবং এর সফলতা — বা ব্যর্থতা — ভবিষ্যতে কয়েক বছর ধরে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ও অভিবাসন নীতি আকার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।



Previous Post Next Post