টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ Tanguar Haor: এক অপার প্রকৃতির টানে

 

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ: এক অপার প্রকৃতির টানে



বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor) শুধু একটি জলাভূমি নয়, বরং এটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ আধার, যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক স্বর্গীয় গন্তব্য। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই হাওর শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, পরিবেশগত গুরুত্বেও অনন্য। এটি দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট (Ramsar Site) হিসেবে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি।


টাঙ্গুয়ার হাওরের ইতিহাস ও গুরুত্ব

টাঙ্গুয়ার হাওর এক সময় স্থানীয়দের জীবিকা নির্বাহের একটি প্রধান উৎস ছিল। ২০০০ সালে এটিকে রামসার সাইট ঘোষণা করার মাধ্যমে এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এখানে প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ এবং ২০০ প্রজাতির পাখির বসবাস রয়েছে, যার মধ্যে অনেক অতিথি পাখিও আছে, যারা শীতে দূর দূরান্ত থেকে এখানে আসে। বর্ষাকালে পুরো এলাকা এক বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়, আর শীতে তা রূপ নেয় এক অনন্য সৌন্দর্যমন্ডিত জলজ অভয়ারণ্যে।


কিভাবে যাবেন টাঙ্গুয়ার হাওরে?

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ:

  • সড়কপথে সরাসরি সুনামগঞ্জ যাওয়ার জন্য ঢাকার সায়েদাবাদ বা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস পাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা।

  • অথবা ঢাকা থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল বা সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর:

  • সুনামগঞ্জ শহর থেকে তাহিরপুর উপজেলা টাঙ্গুয়ার হাওরের মূল প্রবেশদ্বার। লোকাল বাস বা সিএনজি/অটোরিকশা নিয়ে ২-৩ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।

তাহিরপুর থেকে হাওরের মধ্যে:

  • এখান থেকেই নৌকাভ্রমণের শুরু। ছোট ডিঙ্গি নৌকা, Speed Boat, মাঝারি ট্রলার বা হাউসবোট ভাড়া করে হাওর ঘোরা যায়।


কখন যাবেন?

ভ্রমণের সেরা সময় দুইটি মৌসুম:

  1. বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর):

    • তখন পুরো হাওর পানিতে ভরা থাকে।

    • নৌকায় ভাসতে ভাসতে সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর পানির রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা।

  2. শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি):

    • অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে হাওর।

    • আকাশ পরিষ্কার, নৌকাভ্রমণ নিরাপদ এবং ক্যাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত সময়।


কী দেখবেন টাঙ্গুয়ার হাওরে?

১. টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ (নৌকায় দিন-রাত):

  • সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো নৌকায় ভেসে থাকা। আপনি চাইলে হাউসবোটে রাত কাটাতেও পারেন।

২. বারিক টিলা ও শিমুল বাগান:

  • শিমুল বাগান বসন্তকালে দারুণ সুন্দর দেখায়, আর বারিক টিলা থেকে হাওরের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

৩. নীলাদ্রি লেক ও লাউড়ের গড়:

  • ভারতের মেঘালয়ের সীমান্তঘেঁষা এই এলাকা আপনাকে পাহাড় ও লেকের মিশ্র সৌন্দর্য উপহার দেবে।

৪. জলজ পাখি ও অতিথি পাখি দেখা:

  • শীতে হাজারো পাখি আসে – যেমন সরালি, পাতি হাঁস, জলমুরগি, কালেম।

৫. স্থানীয় গ্রাম ও সংস্কৃতি:

  • মাছ ধরা, চরের জীবন, হাওরবাসীদের কষ্ট-সুখ—সবকিছুই একটি আলাদা অভিজ্ঞতা।


থাকার ব্যবস্থা

হাউসবোট বা ট্রলার:

  • অনেকেই ১-২ দিনের জন্য ট্রলার ভাড়া করে রাত কাটান হাওরের বুকে।

  • ট্রলারে খাবার রান্না ও টয়লেটের ব্যবস্থাও থাকে।

হোটেল:

  • সুনামগঞ্জ শহরে কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে।

  • তাহিরপুর বাজারেও কিছু স্থানীয় গেস্ট হাউস বা লজ পাওয়া যায়।


খরচ

ব্যয় নির্ভর করে:

  • আপনি কজন যাচ্ছেন,

  • ট্রলার/নৌকা কত দিনের জন্য ভাড়া করছেন,

  • কোন মৌসুমে যাচ্ছেন।

প্রায় আনুমানিক খরচ:

  • ট্রলার ভাড়া: ৪,০০০–১০,০০০ টাকা (একদিন/রাত),

  • খাবার: ট্রলারে রান্না করলে সাশ্রয়ী,

  • বাসভাড়া (ঢাকা-সুনামগঞ্জ): ৫০০–৭০০ টাকা (প্রতি পাশে)।


করণীয় ও সতর্কতা

পরিবেশ সচেতন হোন: প্লাস্টিক বা অপচনশীল কিছু ফেলে যাবেন না।
লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন: বিশেষ করে যাঁরা সাঁতার জানেন না।
স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন: হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন: হাওরের মাঝে দোকান পাওয়া যায় না।


“বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে ছড়িয়ে থাকা সবুজ জলরাশি, যেখানে আকাশ আর পানির সীমানা মিলেমিশে একাকার…

এই অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নাম টাঙ্গুয়ার হাওর
আর এই হাওরের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিস্ময়—টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার
চলুন, আজকে আমরা ঘুরে দেখি এই ওয়াচ টাওয়ার, জানি এর ইতিহাস, সৌন্দর্য আর কীভাবে আপনি উপভোগ করতে পারেন এই অনন্য অভিজ্ঞতা!”


📍 ওয়াচ টাওয়ার কোথায় এবং কিভাবে যাবেন?
সেখান থেকে স্পিডবোট বা নৌকায় করে হাওরের ভিতর ঢুকতে হবে।

🏞️ ওয়াচ টাওয়ার থেকে দৃশ্য কী রকম?
🚣 কীভাবে ঘুরবেন? – একটি ১ দিনের ট্রিপ প্ল্যান
✅ তাহিরপুর বাজারে নাস্তা করে স্পিডবোট ভাড়া নিন
✅ প্রথমে ঘুরে আসুন জাদুকাটা নদী ও বারিক টিলা
✅ এরপর দুপুরের দিকে ওয়াচ টাওয়ারে উঠুন
✅ বোটেই দুপুরের খাবার নিন – দেশি ভাত, মাছ, ডাল
✅ বিকেলের দিকে ফিরে যান টেকেরঘাট বা জাদুকাটা নদীতে সাঁতার কাটতে
✅ সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসুন তাহিরপুর বাজার বা রাত কাটান হাউসবোটে”

💰 খরচ কেমন হতে পারে?
🧭 কিছু দরকারি টিপস ও সতর্কতা:
✔️ মোবাইল বা ক্যামেরা ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে রাখুন
✔️ বোটে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন
✔️ প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না হাওরে
✔️ ভিডিও ও ছবি তোলার সময় সতর্ক থাকুন
✔️ গাইড ছাড়া হাওরের গভীরে যাবেন না
✔️ বর্ষাকালে বজ্রপাতের সময় সাবধানে থাকুন


আর এই ক্যানভাসের সবচেয়ে সুন্দর ফ্রেম—ওয়াচ টাওয়ার
চোখজুড়ে প্রকৃতি, মনভরে প্রশান্তি।
তাই আপনি যদি প্রকৃতি প্রেমিক হন, এই টাওয়ারে একবার উঠেই দেখুন—
সারাজীবন মনে রাখবেন।

“টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায়। বর্ষাকালে এই হাওর হয়ে ওঠে বিশাল জলরাজ্য। চারপাশে শুধু পানি, মাঝে মাঝে কয়েকটা গাছপালা আর কিছু খাসিয়াদের গ্রাম।

আর এই সৌন্দর্যকে উপভোগের সবচেয়ে ভালো জায়গা—ওয়াচ টাওয়ার। এটি হাওরের মাঝখানে নির্মিত একটি উঁচু কাঠের বা কংক্রিটের টাওয়ার, যা থেকে পুরো হাওরটা দেখা যায় পাখির চোখে।”

“ওয়াচ টাওয়ারে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে পৌঁছাতে হবে সুনামগঞ্জ শহরে। সেখান থেকে যেতে হবে তাহিরপুর বা মধ্যনগর বাজার

সাধারণত ওয়াচ টাওয়ারে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩০–৪৫ মিনিট, নির্ভর করে বোটের গতি ও পানির গভীরতার ওপর।

বর্ষা বা শরৎকালেই এই টাওয়ার সবচেয়ে বেশি দর্শনীয়, যখন চারদিক জলে থই থই করে।”

“ওয়াচ টাওয়ারে ওঠার পর এক অসাধারণ অনুভূতি হয়। নিচে অগাধ পানি, দূরে দূরে মাছ ধরার নৌকা, ডানায় ডানায় উড়ে বেড়ানো পাখি আর চারপাশে শুধু নীল আকাশ আর সবুজ জল।

এখান থেকে আপনি দেখতে পারবেন—

  • সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের চমৎকার দৃশ্য

  • শত শত অতিথি পাখি

  • দিগন্তজোড়া জলরাশি

  • বৃষ্টির দিনে হালকা কুয়াশা মাখা সৌন্দর্য

  • রাতে চাঁদের আলোতে জোছনায় ভেসে থাকা হাওর

আর এই সৌন্দর্য আপনার মন ছুঁয়ে যাবে নিশ্চিত।”


“✅ ভোরে সুনামগঞ্জ থেকে রওনা দিয়ে তাহিরপুর পৌঁছান


“এখানে ভ্রমণের জন্য খুব বেশি খরচ হয় না। নিচে একটি গড় খরচ তালিকা দেওয়া হলো:

  • ঢাকার বাসভাড়া (সুনামগঞ্জ পর্যন্ত): ৳700–৳1000

  • সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর সিএনজি: ৳150–৳200

  • স্পিডবোট ৫–৬ জনের: ৳2500–৳3000 (আধা দিন)

  • খাবার ও নাস্তা: ৳300–৳500

  • হোটেল/রাত্রিযাপন (চাইলেই হাউসবোট): ৳800–৳1500

  • গাইড/লোকাল হেল্পার: ৳500 (প্রয়োজনে)

মোট খরচ: ১ দিনে ১ জনের খরচ পড়বে গড়ে ৳2000–৳2500 টাকার মতো।”

“✔️ পানির বোতল ও হালকা স্ন্যাকস সাথে রাখুন

পরিবেশ রক্ষা আমাদের দায়িত্ব – হাওরকে ভালোবাসলে, হাওরও আপনাকে ভালোবাসবে।

“টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি একটি জীবন্ত প্রকৃতির ক্যানভাস।

ভিডিও ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট আর সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।

 

টাঙ্গুয়ার হাওর একটি জীবন্ত প্রকৃতির নাট্যমঞ্চ—যেখানে জল, পাহাড়, আকাশ আর মানুষের জীবন এক সুরে গাঁথা। যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন, যারা ভিন্নধর্মী ভ্রমণ খুঁজছেন, তাদের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আদর্শ গন্তব্য। এখানে গেলে আপনি প্রকৃতির কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন এবং ফিরে যাবেন এক নতুন অনুভূতি নিয়ে।

Our Social Media link


Visit our Facebook page Facebook
Visit our YouTube | Ghurtecholo
Visit our YouTube Health & Fitness - YouTube
Previous Post Next Post